বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫০ পূর্বাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক,
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ২০২৫ সালের মানবপাচার (TIP) প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে দ্বিতীয় স্তরে রাখা হয়েছে। চলমান চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও মানবপাচার মোকাবিলায় দেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি এবং টেকসই প্রচেষ্টা এই স্বীকৃতির কারণ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ মানবপাচার নির্মূলের সর্বনিম্ন মান পূর্ণ করতে না পারলেও সাম্প্রতিক সময়ে প্রচেষ্টা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আন্তঃসংস্থা সমন্বয়ের ক্ষেত্রে অগ্রগতি স্পষ্ট।
সরকার ১,৪৬২ জন পাচারের শিকার শনাক্ত করেছে; এর মধ্যে ১৪৪ জন যৌনকর্মী, ২৮৫ জন জোরপূর্বক শ্রমিক, এবং ১,০৩৩ জন অন্যান্য ধরনের পাচারের শিকার। ভুক্তভোগীদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, আইনি সহায়তা ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ, ন্যাশনাল রেফারেল মেকানিজম কার্যকর, এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা যেমন ইন্টারপোল ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
সরকার পাচারবিরোধী কমিটি এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ ও অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করছে। মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রুনাইসহ প্রধান গন্তব্যস্থলের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক শ্রম চুক্তি জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া প্রত্যাগত শ্রমিকদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পুনর্বাসনের জন্য জাতীয় নীতিও গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের এই পদক্ষেপ দেশের রাজনৈতিক ইচ্ছা, প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সংযুক্তিকে প্রতিফলিত করছে। দ্বিতীয় স্তরে স্থান পাওয়া দেশটির আইন শৃঙ্খলা, অভিবাসী সুরক্ষা ও পাচার শিকারদের ন্যায়বিচারে ক্রমবর্ধমান প্রতিশ্রুতি নির্দেশ করে।